লেখক: admin

  • H-1B ভিসা কি বন্ধের পথে? জেডি ভ্যান্সের কড়া বার্তায় উদ্বেগ ভারতীয় কর্মী ও পড়ুয়াদের

    H-1B ভিসা কি বন্ধের পথে? জেডি ভ্যান্সের কড়া বার্তায় উদ্বেগ ভারতীয় কর্মী ও পড়ুয়াদের

    আমেরিকায় চাকরির স্বপ্ন দেখা ভারতীয় পেশাদার এবং উচ্চশিক্ষার জন্য সে দেশে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম H-1B ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, এই ভিসা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোয় গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে গোটা ব্যবস্থাই বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করবেন।

    ভ্যান্সের মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন H-1B ভিসাপ্রাপকদের একটি বড় অংশই ভারতীয় নাগরিক।

    তবে আতঙ্কের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন—ভ্যান্সের মন্তব্য কোনও সরকারি বাতিলের ঘোষণা নয়। H-1B ভিসা কর্মসূচি এখনও চালু রয়েছে।

    কেন H-1B ভিসার বিরোধিতা করছেন জেডি ভ্যান্স?

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, দক্ষ বিদেশি প্রতিভাকে আমেরিকায় কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অপব্যবহার করছে কিছু সংস্থা।

    তাঁর দাবি, বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অনেক প্রতিষ্ঠান অপেক্ষাকৃত কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়ে আসছে। এর ফলে আমেরিকার নাগরিকদের চাকরি এবং বেতনের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

    নিজের বক্তব্য বোঝাতে তিনি একটি উদাহরণ দেন। কোনও মার্কিন নাগরিক বছরে ৬০ হাজার ডলার বেতন পেলে, তাঁর পরিবর্তে ৪৫ হাজার ডলারে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করাকে প্রকৃত দক্ষতা-ভিত্তিক নিয়োগ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স।

    তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বিদেশি কর্মীদের দক্ষতার বিরোধিতা নয়, বরং কর্মসংস্থানের নিয়মকে ব্যবহার করে স্থানীয় শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতা বন্ধ করা।

    ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত কি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে?

    না। বর্তমান পরিস্থিতিতে H-1B ভিসা কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা ভারতীয়দের জন্য আলাদাভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন কোনও ঘোষণা নেই।

    ভ্যান্স কর্মসূচিটি বাতিল করার পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। কিন্তু এই বক্তব্য এবং কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।

    মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ফলে ভবিষ্যতে এই ভিসার নিয়ম আরও কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলেও সম্পূর্ণ বাতিলের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

    ১ লক্ষ ডলারের ভিসা ফি নিয়ে আদালতে ধাক্কা

    বিদেশি কর্মী নিয়োগকে আরও ব্যয়বহুল করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু নতুন H-1B আবেদনের জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের শর্ত আরোপের চেষ্টা করেছিল।

    এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রশাসন জানিয়েছিল, সস্তা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রবণতা কমানো এবং আমেরিকান কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করা।

    কিন্তু সিদ্ধান্তটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

    ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই ফি আটকে দেয়। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেও প্রশাসন বাধার সম্মুখীন হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরও একটি ফেডারেল আদালত সংশ্লিষ্ট ফি কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

    ফলে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে এই বিতর্কিত ১ লক্ষ ডলারের ফি আদায় বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষের আইনি লড়াই শেষ হয়নি।

    ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের উদ্বেগ কেন?

    H-1B ভিসা মূলত এমন বিদেশি পেশাদারদের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাঁরা প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণা, অর্থনীতি এবং অন্যান্য বিশেষ দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্রে কাজ করেন।

    ভারতের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী।

    ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর পাশাপাশি বিভিন্ন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও দক্ষ কর্মী নিয়োগে এই ভিসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।

    ভবিষ্যতে H-1B ভিসার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হলে ভারতীয় কর্মীদের মার্কিন চাকরির বাজারে প্রবেশ আরও কঠিন হতে পারে।

    একই সঙ্গে সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, কর্মী স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প পরিচালনাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

    আমেরিকায় পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের কী হবে?

    ভারত থেকে প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যান। তাঁদের একটি অংশ পড়াশোনা শেষ করার পর সেখানেই পেশাগত জীবন শুরু করতে চান।

    অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রথমে যোগ্যতা অনুযায়ী Optional Practical Training বা OPT-র মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় H-1B ভিসার আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    এই কারণে H-1B কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে H-1B নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার অর্থ এই নয় যে শিক্ষার্থী ভিসা, OPT বা বর্তমানে অনুমোদিত সব কর্মসংস্থানের সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

    মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যেও মতবিরোধ

    বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন এবং প্রযুক্তি শিল্পের একাংশের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    প্রশাসনের বক্তব্য, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ ব্যবহার করে কোনও প্রতিষ্ঠান যেন আমেরিকান নাগরিকদের কম বেতনের প্রতিযোগিতার মুখে না ফেলে।

    অন্যদিকে, প্রযুক্তি শিল্পের বহু প্রতিনিধি মনে করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিভা নিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হলে গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ফলে এই বিতর্ক শুধু বিদেশি কর্মীদের ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমেরিকার ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার এবং প্রযুক্তি অর্থনীতির দিকনির্দেশও এর সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতীয়দের এখন কী করা উচিত?

    H-1B ভিসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও আবেদনকারী এবং বর্তমানে কর্মরত পেশাদারদের কোনও রাজনৈতিক মন্তব্যকে চূড়ান্ত অভিবাসন বিধি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    যাঁরা আমেরিকায় কাজ করছেন, তাঁদের বর্তমান ভিসা স্ট্যাটাস, নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বৈধতার দিকে নজর রাখা জরুরি।

    অন্যদিকে, ভবিষ্যতে আমেরিকায় চাকরি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের সরকারি অভিবাসন দফতরের নির্দেশিকা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।

    জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য H-1B ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। কিন্তু এখনই এই কর্মসূচির অবসান ঘটেছে বলে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই।

    আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য আমেরিকার চাকরির দরজা কতটা খোলা থাকবে।

  • রাহুলের পাশে নেহা বোরা, দিল্লির যুব আন্দোলনে বদলাচ্ছে সমীকরণ? CJP-র ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা

    রাহুলের পাশে নেহা বোরা, দিল্লির যুব আন্দোলনে বদলাচ্ছে সমীকরণ? CJP-র ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা

    নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে দেশজুড়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দিল্লির যুব আন্দোলনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA) সভানেত্রী নেহা বোরার উপস্থিতি এখন রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয়। প্রশ্ন উঠছে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক কি আরও গভীর হচ্ছে? আর তেমনটা হলে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-র স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে?

    দিল্লির মিছিলে নজর কাড়লেন নেহা বোরা

    ১২ অক্টোবর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন নেহা বোরা। রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে তাঁকে মিছিলের সামনের সারিতে দেখা যায়।

    রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে এই ছবিই। কারণ, নেহা কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেত্রী নন। তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন AISA-র পরিচিত মুখ এবং সাম্প্রতিক একাধিক যুব আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।

    তাঁর উপস্থিতি কংগ্রেসের বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এটি কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    যুব আন্দোলনে নেহা বোরার গুরুত্ব কতটা?

    শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবাদগুলিতে নেহা বোরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

    বিশেষ করে CJP-র উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলির অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদকে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

    সেই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে নেহার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে জাতীয় স্তরের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অন্যদিকে, কংগ্রেসের কাছে এই ধরনের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক উদ্বেগ ও দাবিদাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    CJP কি নিজের রাজনৈতিক জায়গা হারানোর মুখে?

    অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য যুব প্রতিবাদী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

    নির্বাচনী তালিকা সংশোধন, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি জনসমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

    কিন্তু কোনও আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।

    একদিকে জাতীয় দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামো আন্দোলনকে বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত নতুন সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

    তবে রাহুল গান্ধী CJP-র আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিচ্ছেন বা সংগঠনটির জনসমর্থন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

    পুলিশি পদক্ষেপের মধ্যেও অব্যাহত প্রতিবাদ

    অক্টোবর মাসে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    জন্তর মন্তর এবং কনট প্লেসের মতো এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। CJP এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের আটক করার ঘটনাও সামনে আসে।

    ১৬ অক্টোবরের ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপক ও নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল বলে খবর। পরে নেহা মুক্তি পান।

    এদিকে CJP-র অন্য দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ফলে সংগঠনটির সামনে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধের কেন্দ্রে কী?

    সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি নানা প্রশ্ন তুলেছে।

    তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও এই বৃহত্তর প্রতিবাদের অংশ।

    তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

    এই মতপার্থক্যই বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও যুব সংগঠনগুলির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

    কংগ্রেস ও ছাত্র সংগঠনের সম্পর্ক কোন পথে?

    নেহা বোরার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ঘটনাটি শুধু CJP নয়, কংগ্রেসের নিজস্ব ছাত্র রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন NSUI-র পরিবর্তে বামপন্থী ছাত্রনেতাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    তবে এই ধরনের সহযোগিতা বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মতাদর্শের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ের একটি নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

    যুব আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে যুব সমাজের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে।

    তবে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব অবস্থান বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর।

    রাহুল গান্ধী ও নেহা বোরার একই মিছিলে উপস্থিতি বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা সামনে এনেছে। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতা CJP-র শক্তি বাড়াবে, নাকি তার স্বতন্ত্র পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ জানাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ভবিষ্যতের হাতে।

  • বন্দুক আটকে যাওয়াতেই রক্ষা টাইগার শ্রফের? ঘটনাস্থলে মিলল দুটি তাজা কার্তুজ, তদন্তে নতুন মোড়

    বন্দুক আটকে যাওয়াতেই রক্ষা টাইগার শ্রফের? ঘটনাস্থলে মিলল দুটি তাজা কার্তুজ, তদন্তে নতুন মোড়

    মুম্বইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় উঠে এল নতুন তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি খালি খোল ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধারের পর হামলাকারীর অস্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা থেকে গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজন।


    টাইগার শ্রফের ওপর হামলায় নতুন রহস্য, দ্বিতীয় শুটারের বন্দুক কি জ্যাম হয়েছিল?

    মুম্বই, ১৯ অক্টোবর: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহুতে ঘটে যাওয়া এই হামলায় অভিনেতা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর গাড়ির চালক এবং আরও এক ব্যক্তি আহত হন। এবার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ ও সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশের অনুমান, হামলাকারীদের একজনের আগ্নেয়াস্ত্রে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই কারণেই হয়তো আরও ভয়াবহ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

    পাঁচটি খালি খোল, দুটি তাজা কার্তুজ—কী ইঙ্গিত পাচ্ছেন তদন্তকারীরা?

    ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে তদন্তকারী দল সাতটি কার্তুজ-সংক্রান্ত আলামত পেয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোল এবং দুটি অক্ষত কার্তুজ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলি ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    সাধারণত গুলি চালানোর সময় অস্ত্রের ভিতরের কার্তুজ ব্যবহৃত হওয়ার পর তার খোল বেরিয়ে আসে। কিন্তু কোনও কারণে আগ্নেয়াস্ত্রের কার্যপ্রণালী ব্যাহত হলে অব্যবহৃত কার্তুজও বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, জুহুর ঘটনায় এমনই কিছু ঘটে থাকতে পারে।

    হামলায় ব্যবহৃত বন্দুকের ধরন শনাক্ত করার কাজও চলছে। বিশেষ করে জিগানা পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। যদিও অস্ত্র বিকল হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি।

    সিসিটিভিতে ধরা পড়ল অস্বাভাবিক দৃশ্য

    হামলার সময়ের একটি ভিডিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়ির পাশে এসে দুই ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে একজন পরপর গুলি চালালেও অন্যজনকে নিজের বন্দুক নিয়ে সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।

    দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বারবার অস্ত্রটি সচল করার চেষ্টা করে। এমনকি হাত বদল করেও বন্দুক চালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে তার অস্ত্র থেকে গুলি বেরোনোর বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    এই দৃশ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে অব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধারের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে শুধুমাত্র ভিডিও দেখে বন্দুক জ্যাম হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    কীভাবে ঘটেছিল হামলা?

    রবিবার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুহুর পুষ্পা পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে গাড়িতে চড়ে বেরোচ্ছিলেন টাইগার শ্রফ। সেই সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন সন্দেহভাজন তাঁর বিএমডব্লিউ গাড়ির কাছে পৌঁছয়।

    অভিযোগ, মোটরসাইকেল থেকে নেমে দুই ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তৃতীয় ব্যক্তি বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল, যাতে হামলার পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালানো যায়।

    ঘটনায় টাইগারের গাড়ির চালক ফিরদৌস এবং ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক অটোরিকশাচালক আহত হন। অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি। তবে গুলির বারুদের উত্তাপ এবং ভাঙা কাচের কারণে তাঁর শরীরে সামান্য আঘাত লাগার খবর পাওয়া গিয়েছে।

    হামলার পর অভিনেতাকে চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনায় বলিউড মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কোটা থেকে গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজন

    হামলার পরপরই মুম্বই পুলিশ একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশের সহযোগিতায় শুরু হয় তল্লাশি।

    সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রেহান এবং হৃতিক কুমার নামে দুজনের পরিচয় সামনে এসেছে। তৃতীয় ব্যক্তির বয়স ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, হামলার জন্য অভিযুক্তদের আগাম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারা ট্রেনে চড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি নেপালে পৌঁছনোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আন্ধেরির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। তবে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলির সন্ধান এবং হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য।

    বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ নিয়ে তদন্ত

    ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা কয়েকজনের নাম সামনে আসে। অনিল পণ্ডিত এবং হরমন সান্ধুর নামে হামলার দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

    ওই বার্তায় অভিনেতা সলমন খানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশেও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবি এবং হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে যোগসূত্র কতটা, তা পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

    সলমন খানকে ঘিরে বিষ্ণোই গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই হামলা বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে।

    কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

    মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ হামলার নিন্দা করেছেন। রাজ্যের প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মুম্বইয়ে সংগঠিত অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

    এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দ্বিতীয় হামলাকারীর বন্দুক কি সত্যিই মাঝপথে বিকল হয়ে গিয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে সে গুলি চালাতে পারেনি? উদ্ধার হওয়া কার্তুজের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদেই এই রহস্যের সমাধান মিলতে পারে।